ইরানের রণকৌশলের পেছনে পুতিনের ‘অদৃশ্য হাত’ আছে: যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
আপলোড সময় :
১৩-০৩-২০২৬ ০৮:৪১:৪৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৩-০৩-২০২৬ ০৮:৪১:৪৭ অপরাহ্ন
ইরানের রণকৌশলের পেছনে পুতিনের ‘অদৃশ্য হাত’ আছে: যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইরানের সামরিক কৌশলের পেছনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘ অদৃশ্য হাত’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। উত্তর ইরাকের এরবিলে পশ্চিমা বাহিনী ব্যবহৃত একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
লন্ডনের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের সামরিক সদরদপ্তরে ব্রিফিংয়ের সময় ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তারা হিলিকে জানান, ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন পাইলটরা ক্রমশ ‘রুশ কৌশল’ অনুসরণ করছে।
ইরান ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ২,০০০টির বেশি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে। দীর্ঘ-পাল্লার এই ড্রোনগুলো রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান এই ড্রোনগুলো ব্যবহার করছে।
যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিক পেরি বলেন, রাশিয়া সম্ভবত ইরান ও তাদের মিত্রদের এসব ড্রোন ব্যবহারের বিষয়ে কৌশলগত পরামর্শ দিয়েছে।
তার মতে, ইরানি ড্রোন পাইলটরা এখন ড্রোনগুলো আগের চেয়ে অনেক নিচু দিয়ে উড়াচ্ছে, ফলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে এগুলো আরও কার্যকর হচ্ছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে, কারণ যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শাহেদ ড্রোন ইরানের অন্যতম কার্যকর অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে।
গত রাতে উত্তর ইরাকের এরবিল শহরে পশ্চিমা বাহিনীর ব্যবহৃত একটি সামরিক ঘাঁটিতে কয়েকটি ড্রোন আঘাত হানে। সেখানে ব্রিটিশ সেনাসদস্যরাও অবস্থান করছিলেন। যুক্তরাজ্যের একটি কাউন্টার-ড্রোন দল আরও দুটি ড্রোন ভূপাতিত করে। তবে এ ঘটনায় কোনো ব্রিটিশ সেনা হতাহত হয়নি।
ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, ‘আমি মনে করি কেউই অবাক হবে না যদি বলা হয় যে ইরানের কিছু সামরিক কৌশলের পেছনে পুতিনের গোপন হাত রয়েছে, এবং সম্ভবত কিছু সক্ষমতার ক্ষেত্রেও।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় বিশ্বের যে নেতা সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন তিনি হলেন পুতিন, কারণ এতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ চালানোর জন্য নতুন অর্থের জোগান মিলছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার ইরান দৃঢ় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা এক বিবৃতিতে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মোজতবা খামেনেই ঘোষণা দেন যে ইরান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখবে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার অবস্থানও বজায় রাখবে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, চলমান এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে বৈশ্বিক তেলবাজারে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহ বিঘ্ন’ সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবকে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক হওয়ায় এতে দেশটি অনেক অর্থ উপার্জন করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি ট্রাম্পের দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু করা সহজ, কিন্তু কয়েকটি টুইট দিয়ে তা জেতা যায় না। আপনার এই গুরুতর ভুল সিদ্ধান্তের জন্য আপনাকে অনুতপ্ত না করা পর্যন্ত আমরা থামব না।’
নিউজটি আপডেট করেছেন : NewsUpload
কমেন্ট বক্স